আর ১৯ দিন : শত ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে পদ্মা সেতু

বাঙালির গৌরবের আরেকটি প্রতিক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আর ১৯ দিন বাকি। এই সময়ের মধ্যে পদ্মা সেতুর টুকিটাকি কাজ শেষ করবে সেতু বিভাগ। সেতু উদ্বোধনে ১৪ টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেতু বিভাগের সচিব মঞ্জুর হোসেনকে আহ্বায়ক করে আরও কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সব কমিটির কাজ তদারকি করবে। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সেতু বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন)। পদ্মা সেতুর মতো মহা কর্মযজ্ঞ শেষ প্রায় শেষ। ১৫ জুনের মধ্যে সেতুর পুরো কাজ শেষ হবে। উদ্বোধনের সেতুকে পুরো প্রস্তুত রাখা হবে।

সচিব কমিটি সব উপ-কমিটি সমন্বয় করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ। এছাড়াও কমিটি চাইলে প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-আপ করতে পারবে। পদ্মা সেতু দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আর মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসাবে দেখা দিয়েছে দেশের মানুষের কাছে। চরম ষড়যন্ত্র, বিরোধিতা আর অনিশ্চয়তা ডিঙিয়ে পদ্মায় স্বপ্নের সেতু এখন প্রস্তুত উদ্বোধনের জন্য। অপেক্ষা ২৫ জুনের। এই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্ধোন করবেন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ এ অবকাঠামোর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তখনো হয়নি অর্থ ছাড় করেনি তারা। এর মধ্যে কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এক দশক আগে হঠাৎই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় সংস্থাটি। এ নিয়ে মিথ্যা একটি মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলা কানাডার আদালত পরে খারিজ করে দিয়েছে। এরপর বিশ্বব্যাংকের দেখানো পথে একে একে হাঁটে আরও তিন উন্নয়ন সহযোগী এডিবি, জাইকা ও আইডিবি। ফলে পুরো প্রকল্পই পড়ে এক মহা অনিশ্চয়তার মুখে। এত কিছুর পর প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। শত বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ২৫ জুন যানবাহন চলাচল শুরু করবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিকে পাশে রেখে ওবায়দুল কাদের বললেন, পদ্মা সেতুর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবে বিশ্বব্যাংক ও বিএনপি জোটের রাজনৈতিক দলগুলোও। তবে সব বাধা কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নের স্মারক উদ্বোধনে যখন চলছে ক্ষণগণনা, তখন রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর। এ সময় পাশে বসা বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন বিশ^ ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরকে সেতু উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। পদ্মার জমকালো আয়োজনে বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি আমন্ত্রণ পাবে সেতুর বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোও। তবে জামায়াত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাবে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি।

সেতু মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খবরে বিএনপির মাথাখারাপ হয়ে গেছে। আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরকেও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তাকে চিঠি দেব। কে পক্ষে, কে বিপক্ষে এটা আমি দেখব না। রাজনৈতিক দলেও যারা বিরোধিতা করছেন, তাদেরও চিঠি পাঠাব। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, বিবেচনায় আছে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসনকেও আমন্ত্রণের বিষয়টি। তার বিষয়ে আইন মন্ত্রী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানাতে আইনগত কোন বাধা নেই। ফলে খালেদা জিয়া আমন্ত্রণ জানাতে আর কোন বাধা নেই। বিএনপি নেতারাও দাওয়াত পাবেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে রূপ পাওয়ায় হিংসায় পুড়ছেন বিএনপির নেতারা। আর সেই ক্ষোভ থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে উগরে দিচ্ছেন নানা নেতিবাচক মন্তব্য। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ের জন্য ১৪ সদস্যের ‘মূল কমিটি’ গঠন করেছে সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ১৪ টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মাসেতু আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে মাদারীপুরের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ভাষন দিবেন। সমাবেশ সফল করার বিষয়ে আওয়ামী লীগ কয়েক দফা বৈঠক করেছে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যেসব কর্মসূচি পালন করা হবে, তার সবকিছুতেই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ছাপ থাকবে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে।

দেশে এই প্রথম দ্বিতল সেতু। পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। ভেতর দিয়ে যাবে ট্রেন। ২৫ জুন যানবাহন চলাচল উদ্বোধন করা হবে। রেল চালু হবে আরও পরে। পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের শেষ দিকে মূল সেতু ও নদীশাসনের কাজ শুরু হয়। এর আগে সংযোগ সড়ক, টোলপ্লাজা নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের দিকে। এখন সব কাজ শেষ। অপেক্ষা ২৫ জুনের। সেদিনই দেশের মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল শুরু করবে।

উল্লেখ্য দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলাকে সারা দেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে পদ্মা সেতু। এ সেতুর মাধ্যমে মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

আলোচিত
সমকালীন প্রসঙ্গ
Edit Template

সম্পাদক ও প্রকাশক : সুভাষ সিংহ রায়
নির্বাহী সম্পাদক : হামিদ মোহাম্মদ জসিম

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

১২৮/৪, পূর্ব তেঁজতুরি বাজার, তৃতীয় তলা, কারওয়ান বাজার, ঢাকা- ১২১৫
ফোন : পিএবিএক্স- +৮৮-০২-৫৫০১২৬৪০-১
ফ্যাক্স : + ৮৮ ০২ ৪৮১২০৮৫৩
ই-মেইল : banglabichitra17@gmail.com

যুক্ত থাকুন

© সাপ্তাহিক বাংলা বিচিত্রা কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত ২০২২

 ওয়েবসাইট নির্মান ও ব্যবস্থাপনায়ঃ Contriver IT